Saturday, February 24, 2024

কবিতা করিডোর, ফেব্রুয়ারি সংখ্যা, ২০২৪


 

 সম্পাদকের কলম

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল কবিতা করিডোর । আসলে ব্যক্তিগত জীবনে কিছু সমস্যা মাঝে মাঝে ছেদ টেনে দেয় । আর ছেদ দীর্ঘতর হয়ে ওঠে কোন গভীর অসুখ দেখা দিলে ।  চোখের সমস্যায় দীর্ঘদিন জেরবার হবার পর এখন কিছুটা আরমে । যদিও চোখের সমস্যা আছে কিন্তু কবিতা বা সাহিত্য চর্চা নিয়ে যে টান সেটা কখনোই মরে যায়নি তাই কবিতা করিডোর প্রকাশ করার চিন্তা পুনরায় দেখা দিয়েছে । আর প্রকাশ করতে গিয়ে যা কিছু লেখা সঞ্চয় ছিল সেগুলোই প্রকাশ করা হলো । নতুন করে কারো লেখা চাওয়া হয়নি । প্রকাশনের কোন ভুল ত্রুটি থাকলে অবশ্যই  ক্ষমা করে দেবেন । পরবর্তী সংখ্যাগুলোর জন্য পরবর্তী সময় লেখা চেয়ে নেব। ধন্যবাদ।

কলমে - শুভঙ্কর পাল

 সম্পাদক -কবিতা করিডোর 

বারবিশা,আলিপুরদুয়ার

৭৩৬২০৭

মোবাইল -৯৯৩৩৭৭০৫৪১

মেইল আইডি - subhabrb@gmail.com

নন্দন তত্ত্ব নিয়ে লেখা - শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়

 






 টেকনিক্যাল

       --- শশিভূষণ পাত্র

একটা ছাদ দেওয়া হোক

নির্বাচিত অসুখ ধারনায় মেকানিক প্রয়োজন
ছেঁটে ফেলো বিকল যান্ত্রিক সমস্যা,
আঘাত-গর্তে রাখো শহুরে সমাধান
কাঠি বাছায় জটিলতা নিপাত যাক।
সেলামি ও তোপ দিয়ে কি শোক যাত্রা হয়?

স্মৃতি সৌম্য বিলাসিতা, মাত্র
নাগা সন্ন্যাসীর পথ ধরেছি
পরোয়ানাহীন, কোন মৃত্যু যন্ত্রনা

যুদ্ধে জীবিত হব
দীর্ঘায়ু তরবারির কোপ দিয়েছি।
ক্লান্তির পর ফিরে... একটা পৃথিবী, শুধু আমার।
বাছাটা সময়ের মতো হোক
দেওয়া হোক অবশেষে একটা ছাদ।

            


নীল পাখি মশাল হাতে
   -------------------

ভুলে যাওয়া শর্ত হলে

বেঠিক অপশাসনের যুগে অন্তহীন জটিলতা
মোড়ক পাতায় ত্রিভূজের জন্ম হওয়া,
ভিড় করা জ্যোৎস্নার বালিশ খামে
অনুগদ্য জনতার প্রবৃত্তি
        লোকালয় সংজ্ঞা হানে
         অবাঞ্ছিত দেবতার চিহ্নিত দূত।

বেখেয়ালি সূত্ররা
ইকোনমিক্সের ফাঁদে হড়কে পড়ে।
ঘুরে ফিরে তর্ক যুদ্ধ আসে।
নীল পাখিগুলো
জলপাই আনতে উড়ে গেছে

মশাল হাতে।

 

     ডিলিট   
মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস
----------------------------------------------------
   হঠাৎ পিছনে তাকাতে ভয় হল। ডোরাকাটা নি:শ্বাস। কালো হলদে বাতাস যেন রেলিং বারান্দায়। একেই সন্ধে থেকে দোয়েলটা একাই বসে আছে ঠায় কার্নিশে। কোন বাড়ি নেই ঘর নেই ওর। অথচ দেখ,  ভোর ভোর সঙ্গী ঠিক এসে যাবে, ধরবে ছুয়ে দেবে, চিৎকার চেঁচামেচি, ঘুমের বারোটা বেজে গেছে ততক্ষণে, ঐ ডোরাকাটা নি:শ্বাস ফেলছে... এত দেরি কেন বাপু, খাওয়া মানে টুকটাক ঘোরো ফের, এত বড় ঘর দোর নিয়ে আছ, মেঝেময় পায়চারি কর তারপর শুয়ে এক ঘুমে সকাল কর, তা না, আজে বাজে সব ভয়, আজে বাজে সময়ের উপর হাত। আর টুকটাক এলোমেলো প্রেম। 
ডোরাকাটার দীর্ঘশ্বাস শোনে, সে কি রে বাপু তোরা! এ বয়সেও.... না থুড়ি, তুই ত বয়সী হবিই না বলেছিস কোনদিন। কে যেন তোকে সেই বরটি দিয়েছিল...  ঐ যে উর্বশীর মত না কি রম্ভা কে জানে! হোকগে যাক, এই যে ভারি রিল্যাক্স মুডে রান্না করেছিস খেয়ে নিয়েছিস... এখন বাপু জপ ধ্যান কর, তা না! একটু করে রান্নাঘর বর্তন মাজাঘষা আবার ভেজা হাতেই হোয়াটস্অ্যাপে মেসেজ! কাকে করিস বাপু দেখি দেখি,... ঘাড়ের কাছে গরম নি:শ্বাস। -ও বাব্বা! ডোরাকাটা পড়বে কি ঐতো অন্ধকার, ঐতো কেরামতি, নিজের পেজ নিজে ছাড়া খোলার উপায় নেই। আর মুহূর্তে সব গায়েব!  এতো সেই দশ বারো বছর আগেও পারতিসনা। 
নির্বোধের মত ছোট্ট হ্যান্ডসেটে পিং পিং বাজলেই ডোরাকাটা গুঁফো ফুলে ঢোল, কান খাড়া। রান্নাঘরে বেজায় রগরগিয়ে রান্নাবান্নার মধ্যেও, সব এদিক সেদিক খবর আদান প্রদান, এ পত্রিকা সে পত্রিকায় লেখা ফ্যাক্স! বারে বা! এত শিখলি কোথায়!... গুঁফো ডোরাকাটা আরো ঝাপটে আসে। গায়ের গন্ধটা কেমন বোঁটকা মত। কেন রে এত সৌখিন আয়োজন, জামাকাপড়ের চাকচিক্য, বয়স মেরে কেটে পঞ্চাশ তাও এদিক ওদিক ধরবে কে আর!... সেই তো আগুন আগুন লম্ফ ঝম্প ডিঙোতে ডিঙোতে বোকা বোকা প্রস্থান। নাটকের যবনিকা পাত। বিশ্ব নাট্য দিবস গেল চলে, তুই করলিটা কি? কিছুই না, শুধু পরিকল্পনা মনে মনে আর মেসেজ ভারাক্রান্ত ছবিগুলো আঙুলের চাপে গায়েব করে দেওয়া নয়তো ঐ দুর্মুখদের যাবতীয় কথোপকথনেই আর রঙ চঙ ঢঙেই বারোমাস। 
এ যাবত তো ডোরাকাটার আরও হাসি পায়, থুড়ি, হাসি না, রাগ আর নিজের ব্যর্থতার প্রতি ঘৃণা জেগে সুপার ইগো কমপ্লেক্স । 'আমি কম কিসে! 'তোরা যতই দেখা বাপু আমি ঐ তোদের পুছিইনা।... আবার বাঘের ছালের পোড়া গন্ধ রান্নাঘর পর্যন্ত, ঐ মহিলার নাম কি! কে জানে, সকাল সকাল সব কাজ ফটফটে কমপ্লিট। দৌড় যেন কচি খুকি টি। এ কাজ, সে কাজ এ ঘর, সে ঘর, না না, দু তিন দিন ঘরদোর এলোমেলো দু-কলম না লেখা সময় কাটে অস্থির অস্থির। 
কেনরে! গুঁফো ভাবে নির্ঘাৎ এলোমেলো প্রেম। পুরুষ পুরুষ। সে ভাবে না, ভাবনাটা মানুষ মানুষ হতে পারে। যে দু'হাতে আগলে এগিয়ে নেবে। ঐ ডোরাকাটার গন্ধ নি:শ্বাস আর চোখ বাঁচিয়ে কোন শান্তির জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেবে... যতদিন বাঁচবে সে কি হয়!  হয়না। এ যাবত টিফিন ঘর বা মিড ডে মিলের ঘরের রান্নাবান্না, ডিম মাংস কাঁচা অথবা রান্না করা, সেল্ফ হেল্প মাসিদের গাউন, স্কার্ফ, মাস্ক, মাথার টুপি সব ঠিকঠাক আছে কিনা, হাতে গ্লাভস নিয়ে পাঁপড় বিতরণ করছে কিনা এসব দেখতে দেখতে ফটাফট ছবি চলে আসতে থাকে গ্যালারিতে। এক একরকম ড্রেসে ক্ষুদে ছেলে মেয়েগুলো কখনো ফল কখনো থালায় ডিম ভাত মাংস ভাত এক্সিবিট প্রোডাক্ট হয়ে গ্রুপগুলোয় এন্ট্রি পাচ্ছে। অনেকে মুখ দেখিয়ে বেশ আনন্দ আনন্দ ভাব। ঐ সময়টা ডোরাকাটা পিছনে দাঁড়াতে চাইলেও ভয় পায়। না বাবা! ভিড় টিড়...  এখানে ওর ঘাড়ের উপর নি:শ্বাস ফেললে মার খাওয়ার ভয় আছে। এখানে ঐ হলদে, আকাশী শাড়ি মহা মাতব্বর। 
এখানে ঐ চলে আসাটা বন্ধ করতে পারলে বেশ হত।... হুঁ হুঁ বাবা! হবেনা হবেনা। ও এখন আকাশ ছোঁয়া আর মেসেজ গায়েব করে চেয়ারে বসে বসে। 
ডোরাকাটা সব বোঝে, কে যেন কানে কানে কথা বলে, ওর ভেতরে বৃষ্টি আনে। ওর জ্বর হয় আর ও লিখতে থাকে অনর্গল ঝরনা, সুরে কথা বলে বেহিসেবী। কবিতার কথাগুলো সেভাবে নামতে নামতে ছোটে নির্ভেজাল ভাল থাকবে বলে। ইচ্ছের দৌড়ে ও জেতে। আর ডোরাকাটা একটা ঝোপের ভিতর লুকিয়ে হ্যান্ডসেটে একের পর এক ইউটিউবে পর্ণগ্রাফি দেখে। প্রেমে পড়েনা। সেসব প্রেম ট্রেম পাওয়ারও ক্ষমতা দরকার। ডোরাকাটার অদ্ভুত সুন্দর পশমের মত শরীরের দিকে ফিরেও তাকায় না হরিণী। 
সবুজ খোঁজে আর লাফ দিয়ে সাদাটে রাস্তা পেরোয়। এক অরণ্য থেকে অন্য অরণ্যের কাছে। সে একা সে সবুজ ঘর সামলে রাখে। অরণ্য সামলায় আর ডোরাকাটার গন্ধ পেলেই সরে সরে ফিরে আসে গুহার ভিতর। এদিক ওদিক এলোমেলো শিঙগুলো
লতায় পাতায় শাখায় জড়িয়ে পড়তে চায়। হরিণী ওর পেলবতা নিয়ে দৃঢ়তার অঙ্গীকারে ঐ গায়েব হয়ে যাওয়া হ্যান্ডসেটের সমস্ত মেসেজ গুলো মন থেকে ঘষে ঘষে তোলে। আবার ভরে, আবার মোছে।
   এভাবেই ওরা সমান্তরাল রাস্তায় হাঁটে পাহাড় পেরোয়। হরিণী কিনে ফেলে পাহাড়টাই পুরো। এবার ও ঐ কচি বাচ্চাদের আর একটু বড়দেরও সত্যিকারের খাবার তুলে দেয় । এত কালের জমানো সব খাবার। আর ঐ অ্যান্ড্রয়েড সেটটাকে দূরে পাহাড়ী ঝরনায় ফেলে দেয় ও। সেটা নীলচে আলোয় ভাসতে ভাসতে চলে। 
-----------------------------------------

 নান কিং

সুমন মল্লিক


টেবিলের চারদিকে চারজন ব্যর্থ প্রেমিক
ছোলা ভাগ করে খাচ্ছে – সঙ্গে কৃষ্ণবর্ণ পানীয়৷
সন্ধের এই সময়টা নান কিং ফাঁকাই থাকে৷

চারটি স্ফটিক পানপাত্র৷
একটিতে তৃপ্তির অপেক্ষা৷
একটিতে মিলনের অপেক্ষা৷
একটিতে প্রেমের অপেক্ষা৷
একটিতে ভাগ্যের অপেক্ষা৷

১, ২, ৩, ৪
ডুব, ডুব, ডুব, ডুব

জ্বালাপোড়া পাকস্থলি থেকে বুক হয়ে
বেরিয়ে আসছে মুখ দিয়ে কথার সঙ্গে
আর চারটি চেয়ার যেন 
উড়ে যাচ্ছে চারটি ভেঙে যাবার মুহূর্তে

আজ নান কিং-এ ডুবে যাবার দিন৷ কবিতার ছুটি৷ 

 শুভ্রনীল চক্রবর্ত্তীর কবিতা

আমার ভারতবর্ষ 


আজ তাপমাত্রা ৪০ ছাড়িয়েছে, 
পথে যাদের থাকার কথা ছিল তাদের হঠাৎ দেখতে পারছিনা - 
সুড়ঙ্গের ভেতর সুড়ঙ্গ বানাচ্ছে পিঁপড়ের দল 
খাদ্যের সন্ধানে আবহাওয়া দপ্তর ___ 

তাপমাত্রা ৪০ হোক অথবা ৪ ওরা রোজ এখানেই থাকে, আমার সাথে রোজ চোখাচুখি হয় -
         কথা বলার সাহস পাইনি কোনোদিন, 
         
যে ছেলেটা গোলাপ বেঁচবে বলে জন্মেছিল - 
       সিগন্যাল শুধু একা তারই __ আমরা তো ক্ষণিকের অতিথি 
       
বৃষ্টির দিনে দেখেছি প্লাস্টিক জড়িয়ে ওদের শরীর কেঁপে ওঠে উষ্ণ হাতে _ আমি লজ্জায় চোখ সরিয়ে নি,
    আমার সাহস হয়না আর ওদের কে নতুন ফুটপাথ কিনে দেওয়ার 

এভাবেই ইশারায় ওরা আমার খুব কাছের হয়ে ওঠে, পিঁপড়েদের জন্য আমি একটা দেশলাই বাক্স কিনি __ কিনি নতুন সুড়ঙ্গ ___ নতুন ফুটপাথ 

এভাবেই সিগন্যালে রোজ আমায় দ্যাখে 
আর মুচকি হেসে চলে যায় 
        - আমার ভারতবর্ষ